জনবিতর্ক
জনবিতর্ক
জুলাইয়ের দোদুল্যমান ঐক্যে আমাদের দায়

‘২৪ এর অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বিস্ময়কর দিক বোধহয় এই যে, ‘উই হেইট পলিটিকস’ ট্রেন্ড থেকে শুরু হয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কীভাবে তীব্রভাবে রাজনীতি সচেতন করে তুলেছিল এই আন্দোলন। জুলাইয়ের প্রথমার্ধের পুরোটাই ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে প্রত্যক্ষ করেছি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কতৃক জনগণের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিপীড়ন তথা স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা কী করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘রাজনীতি মুক্ত’ করার ‘বিশেষ’ তাগিদ অনুভব করেছে ও মিছিলের স্লোগান, প্রকাশিত বিবৃতি ও সোশাল মিডিয়া ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
জনবিতর্ক
তিনটা আত্মজীবনী, বাংগালি মুসলমান ও মুজিব

বাংলাদেশের তিনজন পাওয়ারফুল মানুষের তিনটা আত্মজীবনী পড়ছি আমি। এরা তিনজন হইলেন, আবুল মনসুর আহমদ, শেখ মুজিবুর রহমান ও আল মাহমুদ। মজার কথা, তিনজনেই ইশকুল জীবনে, মুসলমান পরিচয়ের কারণে নিগৃহীত হইছিলেন। ঘটনাটা তারা নিজে নিজ অটোবায়োগ্রাফিতে লেখতে ভুল করেন নাই।
জনবিতর্ক
জুলাই কি আগামীর পথ তৈয়ার করতে পারলো?

গণঅভ্যুত্থান যখন ঘটে তখন সোসাইটির স্ট্যাটাস কো ভেঙ্গে যায় বিধায় জনতার আকাঙ্ক্ষায় একটা ভাল স্ট্যাটাস কো তৈয়ার করার বাসনা হয় কাজেই পুরাতন বন্দোবস্ত টিকায়ে রাখার কালচার থেকে গেলে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হইতে বাধ্য। তো, শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন ও প্রাতিষ্ঠানিক কিছু সংস্কারের আলাপ দিয়া অভ্যুত্থান সফল করার আলাপই একটা টাইম ওয়েস্ট আলাপ যা আমরা এক বছর ধইরা করলাম।
জনবিতর্ক
ইউনুস সরকারের ‘ডানপন্থা’ কেমন বস্তু?

পাকিস্তান সৃষ্টির পর ব্রাহ্মণ প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে মুসলমান প্রতিবেশী উৎসাহ আর উল্লাস নিয়ে প্রবেশ করে বলল, দাদা পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছে। যেই ব্রাহ্মণ এদ্দিন আধিপত্য রেখেছে, নিজেকে উঁচু ভেবেছে আচানক মুসলমান প্রতিবেশীর স্বাধীন ব্যক্তিসত্তা, উল্লাস, উৎসাহ নিয়ে পাকিস্তান সৃষ্টির খবর দেয়াকে সে মেনে নিতে পারেনি।
জনবিতর্ক
স্বৈরাচারের সামাজিক সম্মতি উৎপাদনের হালহকিকত

আওয়ামী স্বৈরাচারের সামাজিক সম্মতি তৈরি হয়েছে প্রধানত, ঢাকার কালচারাল গোষ্ঠীর মাধ্যমে। ঢাকার বললাম এই কারণে, বাংলাদেশের যত সরকারি কালচারাল প্রতিষ্ঠান— শিল্পকলা, বাংলা একাডেমি, চারুকলা, বেসরকারি ছায়ানট এবং ‘মেইনস্ট্রিম’ মিডিয়ার প্রচারিত যে ‘কালচার’— তা মূলত ঢাকার মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণীর কালচার। এ
জনবিতর্ক, ভারত প্রশ্ন
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদারির কালে

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ভারত বর্ণনা করে ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ বলে। সে কৃপা করে পাকিস্তান উপনিবেশ থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে। সুতরাং সারাজীবন ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপনিবেশে বসবাস করতে হবে। আর এই উপনিবেশের দেওয়ানির ওপর একচ্ছত্র অধিকার তাদের একমাত্র প্রতিনিধি আওয়ামী লীগের। ভারত তার পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় দাদাগিরি করতে পারবে না; তাই বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে; এই বাস্তবতা কখনো স্বীকার করে না।