জনবিতর্ক

আবু তাহের তারেক

তিনটা আত্মজীবনী, বাংগালি মুসলমান ও মুজিব

August 18, 2025   0 comments   5:39 pm

বাংলাদেশের তিনজন পাওয়ারফুল মানুষের তিনটা আত্মজীবনী পড়ছি আমি। এরা তিনজন হইলেন, আবুল মনসুর আহমদ, শেখ মুজিবুর রহমান ও আল মাহমুদ। মজার কথা, তিনজনেই ইশকুল জীবনে, মুসলমান পরিচয়ের কারণে নিগৃহীত হইছিলেন। ঘটনাটা তারা নিজে নিজ অটোবায়োগ্রাফিতে লেখতে ভুল করেন নাই।

Share

বাংলাদেশের তিনজন পাওয়ারফুল মানুষের তিনটা আত্মজীবনী পড়ছি আমি। এরা তিনজন হইলেন, আবুল মনসুর আহমদ, শেখ মুজিবুর রহমান ও আল মাহমুদ। হজরত মুজিবের অটোবায়োগ্রাফি নিয়া ইদানীং নতুন তর্ক তৈরী হইছে যদিও। এই তর্কটা চলতে চলতেই আমাদের আলাপ চলতে পারে। মজার কথা, তিনজনেই ইশকুল জীবনে, মুসলমান পরিচয়ের কারণে নিগৃহীত হইছিলেন। ঘটনাটা তারা নিজে নিজ অটোবায়োগ্রাফিতে লেখতে ভুল করেন নাই।

আমার অনুমান, আহমদ ছফা যদি এই বেপারটা খিয়াল করতেন, তাহলে হয়ত উনার রচিত ‘বাংগালি মুসলমানের মন’ প্রবন্ধখানা আরেকটু ‘নুয়ান্সড’ হইত! আমি বার বার এই ভাইবা পস্তাই, যে ভার্সিটি লাইফে বায়োগ্রাফী পড়ছি নীরদ চন্দ্রের। পরে যখন ফুল, পাখি, লতা, পাতা করা শিখছি; তখন পড়ছি পাবলো নেরুদা বা মার্কেজের।

নীরদ চন্দ্র কি লিখছিলেন, তার কিছু মনে নাই এখন। নেরুদা আর মার্কেজের জীবনী পইড়া, উনাদের কামের বর্ণনাটুকু মনে আছে। উনাদের (নেরুদা আর মার্কেজের) রচনার গুণ এইটা, বলাই যায়। তা না হইলে, নিরদ চন্দ্রের লেখার কিছুই মনে থাকল না কেন! কামনা-বাসনা খারাপ জিনিস না। কিন্তুক, আমি কে, তার একটা সামাজিক পরিচয় আছে ত! এই পরিচয়ের ইতিহাস জানাটাও দারুন একটা অভিজ্ঞতা নিশ্চয়! এমন অভিজ্ঞতাই হইছিল মনসুর, মুজিবুর আর মাহমুদের আত্মজীবনী  পইড়া।

একটা বেপার মনে আসল সেইদিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের সিলেবাস দেইখা। এই সিলেবাস আমাদের পড়া ইংরেজি সাহিত্যের সিলেবাসের মত। একটা ‘ওয়ান্ডারল্যান্ডিশ’ পাঠ পরিকল্পনা আছে তাতে। বাংলার সিলেবাসের উচিত, এইসব সিরাতের কিতাবাদি সহ, আমাদের ইন্ডিজেনাস ইলামেন্ট দিয়া পাঠপদ্ধতিরে এনরিচ করা।

আলাপটা শুরু হইছিল মুজিবদের বায়োগ্রাফি দিয়া। মুজিবের বায়োগ্রাফিখানা অনেক পয়েন্ট হইতে কিরণ দেয়। উনি উনার স্ট্রাগলরে, অনেকটাই, আপন করে নিতে পারছিলেন- বইখানা পড়লে, এমন মনে করা সম্ভব। আজকে উনার মউতের দিন। বলা ভাল, খুন হইবার দিন। উনার বায়োগ্রাফীতে এই বেপারটা নিশ্চয় নাই! কেন নাই- এই প্রশ্নটাও করতে পারা দরকার! হজরত মুজিব কেন ভাবতে পারেন নাই, যে উনার উচ্চাকাংখা উনারে বিপদে ফালাইতে পারে! উনার পলিটিকাল জার্নিটা শুরু হইছিল ‘সেল্ফ ডিটারমিনেশনের’ জায়গা হইতে। স্বাধীকারের এই পথ তিনি হারাইলেন কেন!

শুনলাম, হজরত সিরাজুল আলম খানরা শেখ মুজিবরে জনপ্রিয় করছিলেন। পাঠের জানালা হিসাবে, এইটা খুবই ইন্টারেস্টিং। এইটা আমরা প্রায় সকলেই জানি, যে ষাইটের দশকীয় বাংগালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ‘৭১ পর্যন্ত গড়াইছিল। অর্থাৎ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূলস্রোত মুজিব সাহেব তৈয়ার করেন নাই। এদিকে, ‘৭১ একটা গণমুক্তিযুদ্ধ আছিল৷ এইখানে কে যে সেন্ট্রাল ফিগার আছল, তা বলা মুশকিল! এই ক্ষুদ্র আলাপে, মুজিবের পাশাপাশি, ষাইটের দশকের জাতীয়তাবাদ ও সিরাজুল আলম খানরেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসাবে পাইলাম আমরা! (আরো কত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও ইনফরমেশন বাকী রইল!)

বলা বাহুল্য, প্রায় দুইশ বছরের উপনিবেশ বিরোধী সংগ্রাম ও ‘৪৭ পরবর্তী স্বাধীকার আন্দোলনের সংগ্রামের নায়কের সংখ্যা এক নয়, বহু৷ আমাদেরকে এই বিচিত্র মুখ ও পথের সন্ধান করতে পারতে হবে।

ধরুন হজরত নবাব সলিমুল্লাহ খানের কথা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টা করার সংগ্রামে তিনি নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়েছিলেন, ইংরেজদের হাতে- এইরকম একটা ইতিহাস চালু আছে আমাদের বিদ্যৎসমাজে। বাংগালি মুসলমানের জন্য হজরত সলিমুল্লাহর সামগ্রিক মেহনত না থাকলে, অথবা ধরেন, ঢাবি না থাকলে- পাকিস্থান পর্ব হইতে এখন অব্দি বড় বড় আন্দোলন যত যা হইছে, সেইগুলা কিভাবে হইত!

এখন কিন্তুক অনেকেই এইটা স্বীকার করতেছেন যে, তিরিশ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন নাই। একটা কথা প্রচলিত আছে, তিন লাখ কইতে গিয়া, হজরত মুজিব তিন মিলিয়ন বইলা ফেলছিলেন, ভুলে ভুলে।

অনেকের মতে, দেড় মিলিয়ন, অর্থাৎ ১৫ লক্ষ মানুষ ইন্তেকাল করছিলেন ১৯৭৪ সনের দুর্ভিক্ষে। এত এত লোক পাক হানাদার বাহিনীর হাতেও মারা গেছিল কি না, সন্দেহ আছে। এইটা বলাই যায়, পাকিরা যত লোক মারছিল, তার প্রায় সমান সংখক, বা তারও বেশী মানুষ হত্যার দায় মুজিবের কান্ধে বর্তায়। এদিকে, প্রায় তিরিশ হাজার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে খুন করার দায়ও আছে মুজিবের কান্ধে! হজরত মুজিব আস্ত একটা পশ্চিম পাকিস্থান হইয়া ভর করছিলেন আমাদের উপরে! আর, উনার ভূতরে সরাইতে গিয়া, চব্বিশ পর্যন্ত লৌয়ের বন্যা বহাইতে হইছে!

হজরত মুজিবরে আগস্টের এই দিনে ফায়ার করা হইছিল। আর, এই মাসেই আমরা মুক্তি পাইছিলাম, উনার ভূতরে ধারণ কইরা আমাদের কান্ধে চড়া, উনারই জালিম মেয়ে হাসিনার হাত থেইকা। বাপ আর মেয়ের কি নিদারুণ পরিণতি! একজন ফায়ারড, আরেকজন পলাতক!

মুজিবরে নিয়া অনেক আলাপই হয়ত হইব। গবেষণাও হইব। আমরা সেইসবের খোজ লইতে, আর তা পড়তে আগ্রহী থাকলাম! মুজিব পুজার যেই কাল্ট হযরত সিরাজুল আলমরা তৈয়ার করছিলেন, জাতীয়তাবাদরে ফুলাইবার-ফাপাইবার দায়, সেই বেপারেও আমাদের নজর দিবার কুশিশ জারি রাখলাম!

Leave the first comment